1. [email protected] : allsite :
BAF - সমস্ত বাংলাদেশী ওয়েবসাইট
September 23, 2021, 3:31 am
BAF

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ যুদ্ধ শাখা। বিমান বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের আকাশ সীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিমান সহায়তা প্রদান করাও বিমান বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়াও বিমান বাহিনী দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান করে থাকে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সাথেও যুক্ত রয়েছে ।

 

ইতিহাস

১৯৭১: স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্ম

১৯৭১ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিমান বাহিনীৱ সৈনিকেৱা ওতপ্ৰতভাবে জৱিত ছিলেন এবং স্থল যুদ্ধে যুদ্ধ প্ৰস্তুতি, পৱিচালনা ও অংশগ্ৰহণ সৱাসৱি কৱেন। ১৯৭১ সালের সেক্টর অধিনায়কদেৱ সম্মেলনেৱ অনেক পৱে অৰ্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধেৱ একেবাৱেই শেষাৰ্ধে থেকেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সংগঠিত কৱাৱ কিছু আলোচনা উঠে। সেই সময় এবং অবস্থাৱ প্ৰেক্ষীতে কোন ক্ৰমেই তা বাস্তৱায়নে সম্ভবপৱ এবং যুক্তি সংগত ছিলনা বলে কোন সিদ্ধান্তে পৌছায়নি প্ৰবাসী সৱকাৱ। কিন্ত যুদ্ধেৱ শুৱু থেকেই বেশ কিছু বিমান বাহিনীৱ কৰ্মকৰ্তা ও টেকনিকেল বৈমানিক সক্ৰীয় ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধ ময়দানে সৱাসৱি সম্পৃক্ত ছিলেন। এদেৱ মাঝে মূলত স্কোয়াড্ৰন লীডাৱ এম হামিদুল্লাহ্ খান ও উইং কমান্ডাৱ খাদেমুল বাশাৱ ছিলেন ১১ এবং ৬ সেকুটৱেৱ অধিনায়ক পৰ্যায়। জেড ফোৰ্সে আশৱাফ, ৱৌফ, লিয়াকত প্ৰমুখও যুদ্ধ ময়দানে বিভিন্ন গুৰুত্বপূৰ্ণ পদে দায়িত্বৱত ছিলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৭ই এপ্ৰিল ১৯৭২ এ আনুষ্ঠানিক ঘষনা এবং যাত্ৰা শুৱু হয়। শুরুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জনবল ছিল পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষত্যাগী বাঙালি কর্মকর্তা ও বিমানসেনা। ভাৱতে আশ্ৰয় নিয়ে যুদ্ধ সমাপ্ত পৰ্যন্ত থেকে যাওয়া বেশ কিছু বিমান কৰ্মকৰ্তা ছিলেন যেমন বদৱুল আলম, এ কে খন্দকাৱ, সুলতান মাহমুদ, বাকি সকল বেসামৱিক বিমান চালক সাবেক পিআইএ পাইলট ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাবেক পিআইএ পাইলট ক্যাপ্টেন সাত্তার, সাবেক পিআইএ পাইলট ক্যাপ্টেন সরফুদ্দিন এবং সাবেক কৃষিবিভাগের পাইলট ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ। এদেৱ মধ্যে বিশেষ কৱে ২/৩ জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীৱ কৰ্মকৰ্তাৱ দাবি অনুযায়ী ভারতে “বাংলাদেশ বিমান বাহিনীৱ” নাম কৱনটি ঘষোনা কৱা হয়। এবং এদেৱ যুদ্ধ বিমান চালাৱ প্ৰশীক্ষন দেয়া হয়। মূলত তাদেৱ দাবি অনুযায়ী ভাৱত থেকে তাৱাই বাংলাদেশে উৱে এসে বিল্ডিং বিধ্যস্ত অভিযান চালান। এই অপেৱেশন তাৱাই কিলো ফ্লাইট নাম দেন। ভারতের টোকেন উপহার হিসেবে কিলো ফ্লাইটেৱ সাফল্যৱ জন্য ছোট তিনটি পুৱাতন বিমানেৱ মধ্যে দেয়া একটি অকেজো ডাকোটা ডিসি-৩ পরিবহন বিমান, পৱিত্ত্যক্ত একটি প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চল পৰ্য্যবেক্ষণ বিমান ডি.এইচ.সি-৩ টুইন অটার ও একটি ঔষধ নিক্ষেপেৱ প্ৰয়োজন ব্যবহাৱিত অচল অ্যালুয়েট থ্রি হেলিকপ্টার বাংলাদেশে উৱিয়ে নিয়ে এসে বোমা বৰ্শন কৱেন। যাৱ বৰ্নণা ১৯৭২ এ জনাব বদৱুল আলমেৱ ইত্তেফাকে ছাপা একটি আৰ্টিকেলে প্ৰথম দেখা যায়। বস্তুতপক্ষে ১৬ই ডিসেম্বৱেৱ পৱে এই যাত্ৰাটি বাস্তৱায়ন হয়। যেই অপাৱেশন বিমান বাহিনীর শুৱু যাত্রা হিসেবে কিলো ফ্লাইট নাম কৱন হয়েছিল এবং জাহাজ তিনটি কোন প্ৰকাৱে উড়িয়ে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৭ই এপ্ৰিল সৱকাৱি গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী অনুষ্ঠানিক ৱাষ্ট্ৰীয় যাত্ৰা শুৱু কৱে। ভারতের আসামের ডিমাপুরের একটি পরিত্যাক্ত রানওয়েতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর টেকনিশিয়ানরা উপহার পাওয়া বিমানগুলো রূপান্তর ও আক্রমণ উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু করে। ডাকোটা বিমানটিকে ৫০০ পাউন্ড বোমা বহনে উপযোগী করে তোলা হয়। টুইন অটারটির প্রতি পাখার নিচে ৭টি করে রকেট যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি এটি ১০টি ২৫ পাউন্ড ওজনের বোমাও বহন করতে পারত যা একটি দরজা দিয়ে হাত দিয়ে নিক্ষেপ করতে হত। আর অ্যালুয়েট হেলিকপ্টারের সামনে একটি .৩০৩ ব্রাউনিং মেশিন গান এবং দুই পাইলন থেকে ১৪টি রকেট নিক্ষেপের ব্যবস্থা করা হয়। এই ছোট বাহিনীকে কিলো ফ্লাইট নামকরণ করা হয়। স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদকে কিলো ফ্লাইটের অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে। ওইদিন ক্যাপ্টেন আকরাম কর্তৃক পরিচালিত আক্রমণে চট্টগ্রামের তেল ডিপো ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বিমান বাহিনী মৌলভীবাজারে অবস্থিত পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যারাকে হামলা চালায়।

 

১৯৭১ পরবর্তী: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিকাশ

স্বাধীনতা যুদ্ধেৱ সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত অনেক বাংলাদেশী কর্মকর্তা ও বিমান সেনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। যার ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সূচনালগ্নেই এক দল প্রশিক্ষিত জনবল পেয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৩~৭৪ সালে পাকিস্তান ফেরত জনবল বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণের ফলে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহু বিমান মিয়ানমাৱ হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। ভূমিতে আটকা পরা বিমান ভাৱত নিয়ে যায়। আত্মসমর্পণের পৱে পাকিস্তানি বাহিনীৱ এসব বিমানের বেশিরভাগই ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত বিমান রয়ে যায়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রযুক্তিবিদরা কিছু বিমানকে মেরামত করে উড্ডয়ন সক্ষম করে তোলে। স্বাধীনতার পর বিমান বাহিনী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বড় ধরনের অনুদান পায় যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ১০টি মিগ-২১এমএফ এবং ২টি মিগ-২১ইউএম যুদ্ধ বিমান।

১৯৭৭ সালে জাপান এয়াৱলাইন্স ভাৱত থেকে ঢাকায় হাইজ্যাক হওয়াৱ ঘটনাৱ প্ৰেক্ষিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বিদ্রোহ দেখা দেয়। যেটা দমনে অনেক কর্মকর্তা ও বিমানসেনা নিহত হয়। বিদ্রোহ পরবর্তী বিচারে আরও বহু সংখ্যক কর্মকর্তা ও বিমানসেনার মৃত্যুদণ্ড হয় যার ফলে বিমান বাহিনীর জনবল ভয়াবহ হ্রাস পায়। বিদ্রোহ পরবর্তী বিমান বাহিনীতে জনবল সংকটে দৈনন্দিন কাজকর্ম চালানো কঠিন হয়ে পরে যা একটি সদ্যসৃষ্ট বিমান বাহিনীর বিকাশে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করে ।

উড্ডয়নের পূর্ব মুহূর্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মিগ-২৯বি যুদ্ধ বিমান

জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর শাসনামলে পাকিস্তানের সাথে সামরিক সহযোগিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। যার ফলস্বরূপ ১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে পাকিস্তান কয়েক স্কোয়াড্রন এফ-৬ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে উপহার হিসেবে প্রদান করে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী রাশিয়া থেকে ৮টি চতুর্থ প্রজন্মের মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীকে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।

 

ফোর্সেস গোল ২০৩০

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী বর্তমানে ফোর্সেস গোল ২০৩০ নামক একটি উচ্চাভিলাষী আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠছে। এই পরিকল্পনার অধীনে বিমান সক্ষমতা এবং ভূমি-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুইটিই শক্তিশালিতা করা হচ্ছে। ২০১১ সালে কক্সবাজারে নতুন বিমান ঘাটি স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ঢাকায় স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিমানঘাটি। ঘাটি প্রতিরক্ষা ও পাইলট উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে বিশেষায়িত ইউনিট স্কোয়াড্রন ৪১।

২০১০ সাল থেকে বিমান বাহিনীতে ১৬টি এফ-৭বিজিআই যুদ্ধ বিমান, ১৬ টি উচ্চতর জেট প্রশিক্ষণ বিমান, ৯টি কে-৮ প্রাথমিক জেট প্রশিক্ষণ বিমান, ৩টি এল-৪১০ পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমান এবং ২৩টি পিটি-৬ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ বিমান যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও যুক্ত হয়েছে ১৬টি এমআই-১৭১এসএইচ যুদ্ধ হেলিকপ্টার, ২টি এডব্লিউ-১৩৯ সামুদ্রিক উদ্ধার ও অনুসন্ধান হেলিকপ্টার এবং ২টি এডব্লিউ-১১৯কেএক্স প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টার।

২০১১ সালে এফএম-৯০ স্বল্প পাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের মধ্য দিয়ে বিমান বাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করে। এখন পর্যন্ত বিমান বাহিনী দুই রেজিমেন্ট এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করেছে। ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে জেওয়াই-১১বি, জেএইচ-১৬, ওয়াইএলসি-৬ এবং ওয়াইএলসি-২ রাডার ব্যবস্থা।

 

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অফিসার ও বিমানসেনা মিলিয়ে ৬০০ এর অধিক জনবল, ১২টি হেলিকপ্টার ও ১টি পরিবহন বিমান বর্তমানে জাতিসংঘ মিশনে মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে হাইতিতে ৩টি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার, মালিতে ৩টি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার এবং কঙ্গোতে ৬টি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার ও ১টি সি-১৩০বি পরিবহন বিমান মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া লাইবেরিয়া, আইভরি কোস্ট প্রভৃতি দেশেও বিমান বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।